২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর থেকে ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার পালিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আগ্রাসন ও পদ্ধতিগত লক্ষ্যবস্তুকরণের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি শিক্ষকরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় প্রকৃত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৭০ জনের বেশি শিক্ষক এখনও কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন।
ধ্বংস করা হয়েছে ২ লাখের বেশি ভবন
ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
পিসিবিএস জানিয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থার অবকাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পানি ও বর্জ্যপানি অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র প্রায় ৬ লিটার বা ১.৬ গ্যালন পানি পাচ্ছেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
