নিউগিনিতে হামলার পরিকল্পনা হয় খাবারের দোকানে, লোক দেয় বিএনপির দুই বাহিনী

জাতীয়

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার আগে একটি খাবারের দোকানে বৈঠক করে পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। পরে দুই জায়গা থেকে লোক জড়ো করে রাতে প্রকল্পটিতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর বিকেলে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠ এবং মানিকদী এলাকায় দুই দলে লোক জড়ো করা হয়। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে এবং হেঁটে প্রায় ২০০ জন নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের দিকে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করা হয় বলে সূত্রের দাবি।

তদন্তকারীদের দাবি, হামলায় মিরপুর এলাকার দুটি বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়। এর একটি ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমের এবং অন্যটি পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনী। হামলার জন্য লোক জোগাড়ের দায়িত্ব ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহকে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। Pasted text
মামলার তদন্তের দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কারা হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল, কারা অংশ নিয়েছে এবং কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, খাবারের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে বৈঠকে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র শাহকে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ১১ জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তে ওই বৈঠককে হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। Pasted text
সূত্র আরও জানায়, নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার সঙ্গে জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি থেকে বের হওয়ার জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ ছিল। নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, রাস্তা দিতে রাজি না হওয়ায় ভাড়াটে লোক দিয়ে হামলা করানো হয়।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলার এজাহারে প্রায় ৫০টি গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের পক্ষ থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। কারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল, তা শনাক্তের কাজ চলছে।

অন্যদিকে, নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও জমিসংক্রান্ত পৃথক অভিযোগ রয়েছে। জোয়ার সাহারা এলাকায় সাড়ে আট কাঠা জমির পুরো মূল্য পরিশোধ না করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়েছে। নাজিম এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বলেছেন, ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ে অভিযুক্ত করে হয়রানি করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।