প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ

সারাদেশ

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শাহে আলমের পরিবারের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে ৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অন্তত ১২টি কাজ পেয়েছে।

এর মধ্যে বগুড়াভিত্তিক রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড এবং তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্তের মালিকানাধীন মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং এসব কাজ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিসিকের চুক্তি নিয়ে আলোচনা

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল বিসিক রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি চুক্তি দেয়। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ওই কাজের দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সময়ের একটি অংশে শাহে আলম বিসিকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সরকারি কাজ পাওয়া স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে।

তবে শাহে আলম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি বিসিকে কোনো ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না এবং বোর্ড সদস্য হিসেবে তার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না।


স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত

সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তাদের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা উচিত।


শাহে আলমের বক্তব্য

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম জানিয়েছেন, তার ছেলে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি পদে থাকার সময় ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ পেয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল না।

বিসিকের কাজ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বোর্ড সদস্য হিসেবে তার কোনো দরপত্র আহ্বান, অনুমোদন বা অর্থ পরিশোধের ক্ষমতা ছিল না।


এলজিআরডি নিয়েও অভিযোগ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তার পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েকটি সরকারি কাজ পেয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার প্রভাব নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।


সরকারি কাজে স্বচ্ছতার প্রশ্ন

সরকারি প্রকল্পে দরপত্র ও চুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন, যাতে জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।