নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মামলার পর পুলিশ দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে। তবে মামলার প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়েছে, সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুল মিয়ার নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়েও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান ওই ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সে এবং ঘটনার বিচার দাবি করেছে।
সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা বিএনপির
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
