তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্যের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

জাতীয়

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি ও সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানের অন্তর্বর্তী জামিন স্থগিত করে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন চেম্বার আদালত।

এর আগে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তনু হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হাফিজুরকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশের পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাফিজুর রহমান। তার মুক্তির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে জামিন স্থগিতের এ নতুন আদেশ আসে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ একটি জঙ্গলে উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং নিয়মিত সেনানিবাসের একটি বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যেতেন। ওই বাসার কাছাকাছি এলাকা থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা ছিল, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছেন।

সাম্প্রতিক আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে তনু হত্যা মামলায় আবারও নতুন করে বিচারিক প্রক্রিয়া সামনে এলো। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেন কি না এবং পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকেই সবার নজর রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।