বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ডিগ্রি পাসের জাল শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপন। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক।
গত ২৮ জুন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে ফজলুল হক উজ্জ্বলকে খড়না ইউনিয়নের নাদুর পুকুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বনভেটি আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়—এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাল শিক্ষা সনদের অভিযোগ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম স্নাতক (ডিগ্রি) পাস হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়।
তবে উজ্জ্বলের জমা দেওয়া ডিগ্রি সনদটি জাল ও পরিবর্তিত (টেম্পারিং করা) বলে অভিযোগ করেছেন খড়না ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী। এ বিষয়ে তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সনদের রোল নম্বর যাচাই করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের সঙ্গে শিক্ষা সনদের নামের মিল নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ, দাবি উভয় পক্ষের
অভিযোগকারী মহসীন আলী দাবি করেন, আর্থিক লেনদেন ও তদবিরের মাধ্যমে জাল সনদ ব্যবহার করে সভাপতি পদ নেওয়া হয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপন। তিনি দাবি করেন, তাঁর জমা দেওয়া শিক্ষা সনদ সম্পূর্ণ সঠিক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করতে এমন অভিযোগ করেছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে চলছে যাচাই
দুটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সভাপতির জন্য উজ্জ্বল যে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেগুলোই শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসানের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাজাহানপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ পাওয়ার পর দুই বিদ্যালয়ের সভাপতির সনদ যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে
