বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে ২০%, সংকটে ব্যবসায়ীরা

কাঁচামাল ও জ্বালানি সংকটে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত

অর্থনীতি

আটা-ময়দা, চিনি ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন দামে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা

কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান সামাল দেওয়া এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বাড়ছে আটা-ময়দা, চিনি ও তেলের দাম

বেকারি খাতের উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান কাঁচামাল ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনির দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

গত এক মাসে:

  • চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা।
  • আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।
  • ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিও উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে।

এসব কারণে বিস্কুট, পাউরুটি, কেকসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত উৎপাদন

কাঁচামালের সংকটের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি বেকারি শিল্পে নতুন চাপ তৈরি করেছে। অনেক কারখানা পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় নিয়মিত উৎপাদন চালাতে পারছে না।

উদ্যোক্তাদের দাবি, উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও কর্মীদের বেতন, কারখানা পরিচালনা ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বেকারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।


ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব নয়। তাই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া গেলে দেশের ক্ষুদ্র বেকারি উদ্যোক্তারা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।