চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই কয়েকজন যুবক লাইট মেশিনগান (এলজি) ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে এলজি হাতে দৌড়াতে এবং আকাশের দিকে একের পর এক গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
এছাড়া মাথায় পট্টি ও লাল টি-শার্ট পরা আরেক যুবকসহ আরও কয়েকজনকে একইভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রধারীদের একজন সিরাজুল ইসলাম। তিনি সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা নন। তাকে পাশের উপজেলা মিরসরাই থেকে ভাড়ায় আনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
সিরাজুল মিরসরাই উপজেলার ১৪ নম্বর হাইতকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মির্জাবাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
অন্যদিকে লাল টি-শার্ট পরা অস্ত্রধারী যুবকের নাম মো. সাদেক। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার মহালঙ্কা এলাকার মৃত মো. হাসেমের ছেলে।
সংঘর্ষে আহত একাধিক নেতাকর্মী
অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুই পক্ষের এক ডজনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে ঘটনার পর বুধবার পর্যন্ত কোনো অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সামনেই একটি পিকআপ থেকে অস্ত্র নামিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অংশ নেয় তারা।
একে অপরকে দায়ী করছে দুই পক্ষ
মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা কাজী সালাউদ্দিন অভিযোগ করেছেন, ভাড়ায় আনা অস্ত্রধারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী।
তিনি দাবি করেন, অস্ত্রধারীদের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে কিছু ছবিও তার কাছে রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসলাম চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, অস্ত্রধারীরা সবাই কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী এবং তাদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
পরিচয় যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
তিনি বলেন, অস্ত্রধারীদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় বিরোধের পেছনে মনোনয়ন ইস্যু
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের অন্যতম কারণ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছিলেন আসলাম চৌধুরী। তবে আদালতের নির্দেশে তিনি শপথ নিতে পারেননি এবং আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তৎপর বলে জানা গেছে।
