মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংসের সঙ্গে আনলিমিটেড ভাত বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাফরুল থানা পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ করছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আগারগাঁওয়ে মিজানের দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে যান।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগ
ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের দাবি, দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় মিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হন।
পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মী ও পুলিশ সদস্যদেরও আঘাত করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে কাফরুল থানায় নেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ।
যেভাবে ‘ভাইরাল মিজান’ হিসেবে পরিচিতি
আগারগাঁওয়ের ফুটপাতে ছোট একটি খাবারের দোকান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান মিজানুর রহমান।
কম দামে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য খাবার বিক্রির কারণে তাঁর দোকান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
দোকানটিতে ১০০ টাকায় এক পিস গরুর মাংসের সঙ্গে আনলিমিটেড ভাত, ডাল ও আলু খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো বলে প্রচার ছিল। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই দোকানটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
দোকানটির ব্যতিক্রমী নামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কাড়ে—‘নিজের হাতে লইয়া খাবেন, ১৪ বার নিয়ে খাবেন।’
গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিজানকে আটকের পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারের দোকানের কারণে পরিচিত হয়ে ওঠা মিজানের গ্রেপ্তারের ঘটনা ইতোমধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
