দর্শনার্থীদের জন্য খুলে গেল সাবেক গণভবন: মুগ্ধর পানির বোতল থেকে প্রতীকী কবর—ভেতরে ভেতরে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য

জাতীয়

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে জাদুঘরটি ঘুরে দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক বা স্লটভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জাদুঘর পরিদর্শনে আগ্রহীদের আগে থেকেই ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর পছন্দের দিন ও প্রবেশের সময় নির্বাচন করে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দর্শনার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি থাকা সময় নির্বাচন করতে হবে। অনলাইনের পাশাপাশি নির্ধারিত ব্যবস্থায় অফলাইনেও টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি, আন্দোলনের আলোকচিত্র, শহীদদের আত্মত্যাগের দলিল, গুম ও নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বিগত দেড় দশকের আলোচিত ঘটনাগুলোর তথ্য ও ঐতিহাসিক দলিলও স্থান পেয়েছে।

এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং গুম-নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্যচিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি আবেগঘন চিঠিও।

জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে প্রতীকী কবর। আন্দোলনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত ভাস্কর্যের মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের প্রতীকী ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, এটি কেবল একটি প্রদর্শনীকেন্দ্র নয়; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।