রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার, ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী।
কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ ছিল না পরিবারের সঙ্গে
পরিবারটির সঙ্গে কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে স্বজনদের সূত্রে জানা যায়। পরে গণপতি চক্রবর্তীর এক স্বজন বাড়িতে গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র এলোমেলো দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ পাওয়া যায়।
বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় সিঁড়ির কাছে এবং ছোট ছেলের মরদেহ ঘরের ভেতরে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
বাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক আলামত পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ ধারণা করছে, ডাকাতি বা লুটপাটের সময় হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সন্দেহভাজন তিনজন আটক
ঘটনার পর পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে ডাকাতি, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ জড়িত ছিল কি না—সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে মাছুয়াপাড়া এলাকায় শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
