যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিতে আবারও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে বৃহস্পতিবার দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি।
এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রচেষ্টা আইনি বাধার মুখে পড়েছিল। এবার নতুন নির্বাহী পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টি আবার সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দুটি নির্বাহী আদেশে কী রয়েছে?
নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর একটিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এমন কিছু অ-নাগরিকের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের যোগ্যতা সীমিত করা হতে পারে।
অন্য নির্বাহী আদেশটি তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বার্থ ট্যুরিজম বলতে সাধারণত এমন ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো বিদেশি নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে জন্মের মাধ্যমে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
কী বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ওভাল অফিসে নির্বাহী আদেশে সই করার সময় ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আরও অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নীতিটিতে পরিবর্তন প্রয়োজন।
তবে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন নির্বাহী আদেশ নিয়েও আইনি বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কী বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান?
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে।
সংশোধনীটির নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার মূল বক্তব্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং দেশটির এখতিয়ারের অধীন ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
দীর্ঘদিন ধরে এই সাংবিধানিক বিধানের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশু নাগরিকত্ব পেয়ে আসছে।
তবে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই সাধারণ নীতি প্রযোজ্য হয় না।
কেন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক?
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকদের একটি অংশ মনে করেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে একটি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বার্থ ট্যুরিজম এবং বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই—এমন বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্ব নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সমর্থকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এর পরিধি সংকুচিত করার প্রচেষ্টা সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
সামনে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ কার্যকরভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি কতটা পরিবর্তন করতে পারবে, তা শেষ পর্যন্ত আদালতের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
কারণ বিষয়টি শুধু অভিবাসন নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যাও জড়িত।
নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর বাস্তবায়ন এবং এগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
